বাঁকিপুট সৈকতে নিস্তব্ধতার জাদু

সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের মায়াবী দৃশ্য ভোলার নয়

আমরা অনেকেই না বুঝে ‘ভার্জিন বিচ’ কথাটি ব্যবহার করি। তা যে আসলে কী, জানা যায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বাঁকিপুট সৈকতে গেলে। হতে পারে আপনি কখনও এই জায়গার নাম শোনেননি। বাঁকিপুট সৈকত জুনপুটের কাছেই, যার গল্প কয়েকদিন আগেই বলেছি আমরা।

যেহেতু পর্যটকদের কাছে খুব একটা পরিচিত নয়, তাই বাঁকিপুট সৈকত এখনও নির্জন। ঝাউগাছের ঘন অরণ্যে ঘেরা বেলাভূমি। কলকাতা থেকে সহজেই চলে যেতে পাড়েন সড়কপথে। জাতীয় সড়ক ৪ ধরে মেচেদা, দিঘা এবং কাঁথি পেরিয়ে বাঁকিপুট পৌঁছবেন। কাঁথি থেকে দূরত্ব ১৬ কিলোমিটারের মতো।   

শহুরে কোলাহলে যদি ক্লান্ত হয়ে যান, নির্জনে ছুটি কাটানোর ইচ্ছে হয়, বাঁকিপুট তাহলে আদর্শ গন্তব্য। বেলাভূমিতে আপনার সঙ্গী হবে কেবল লাল কাঁকড়া। ভিড়ের হট্টগোল বা গাড়ির শব্দ গিয়ে সৈকতের নিরবিচ্ছিন্ন শান্তি নষ্ট করবে না। আপনার পা ছুঁয়ে যাবে সমুদ্রের ঢেউ। শব্দ বলতে পাখিদের ডাক। দূর দিগন্তে নৌকো এবং জাহাজদের চলাফেরা দেখতে পাবেন। মনে হবে মানবসভ্যতা থেকে বিচ্ছিন্ন কোনও দ্বীপে গিয়ে রয়েছেন। সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের মায়াবী দৃশ্য কখনও ভোলার নয়। সম্ভবত বঙ্গোপসাগরের সবচেয়ে নিরিবিলি সৈকত এটি। 

বাঁকিপুট যেহেতু মোহনায় অবস্থিত, সমুদ্রকে কাছে পাওয়া যায় না সবসময়। জোয়ার এলে সমুদ্র ফুলে ফেঁপে ঢুকে পড়বে সৈকতে। ভাটার সময় কাদা মাখানো বালি চোখে পড়বে বেলাভূমির সামনে। তাতে মন খারাপের কিছু নেই। বিশাল ঝাউবনের সৌন্দর্য আপনার মন ভরিয়ে দেবে। কখনও কখনও মোহনার জলে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। গামছা দিয়ে আপনিও মাছ ধরতে পারেন। খুব একটা সহজ কাজ নয়, তবে মজা প্রচুর।

দরিয়াপুরের ৯৬ ফুট উঁচু বাতিঘরে যেতে ভুলবেন না। ছড়িয়ে থাকা সৈকত এবং দিগন্ত বিস্তৃত সমুদ্রের অসাধারণ মোহময় ভিউ পাবেন। সেই অভিজ্ঞতা কখনও ভুলবেন না সারা জীবনে। পর্যটকদের জন্য বিকেল ৩টেয় বাতিঘর খুলে যায়।

বাঁকিপুটের আরেক আকর্ষণ কপালকুণ্ডলার মন্দির। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর কিংবদন্তি উপন্যাস ‘কপালকুণ্ডলা’-র প্রেরণা এখান থেকেই পেয়েছিলেন। যেতে পারেন পেটুয়াঘাটের মনোরম সুন্দর দেশপ্রাণ ফিশিং হারবারে। সমুদ্র এবং নদীর সঙ্গম দেখতে পাবেন সেখানে। রসুলপুর নদী মিশেছে বঙ্গোপসাগরে। ঠিক যেন ক্যানভাসে আঁকা ছবি। 

বাঁকিপুটে একটি ছোট্ট হোটেল আছে। তারা কাঁথি থেকে মালপত্র তুলে নেওয়ার ব্যবস্থাও করে। তবে যদি আরামে থাকতে চান, দিঘাই ভালো জায়গা। দিঘা থেকে বাঁকিপুট মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে। দেড় ঘণ্টায় পৌঁছনো যায়। সকালে গিয়ে সারাদিন কাটিয়ে সন্ধেবেলা ফিরে আসতে পারবেন। দিঘায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের নিজস্ব দিঘালি ট্যুরিজম প্রপার্টি। বুকিং এবং অন্যান্য তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন – 
West Bengal Tourism Development Corporation Ltd.
Udayachal Tourist Lodge
DG Block (1st floor), Sec II, Salt Lake, Kolkata – 700091
Phone: 033 2358 5189
Email: visitwestbengal@yahoo.co.in, mdwbtdc@gmail.com, dgmrwbtdc@gmail.com
Website: https://www.wbtdcl.com/
 

Developed by DXDasia