
মালদা থেকে মুম্বাই – রাফা ইয়াসমিনের সংগীত সফর
জি টিভির ‘সারেগামাপা’ লিটল চ্যাম্পসের অডিশন পর্বে রাফা ইয়াসমিনের গাওয়া ‘সেনেওরিটা’ গান শুনে প্রবাদপ্রতিম অনু মালিক, শঙ্কর মহাদেবন, নীতি মোহনরা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন৷ গানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে নেটমাধ্যমে। এরপর শুরু হয় রাফার সাফল্যের অন্য পর্যায়৷
বাচ্চা মেয়েটার শখ ছিল দিদিদের দেখাদেখি হারমোনিয়াম নিয়ে গান করবে৷ তাই হারমোনিয়াম দেখলেই ছুটে যেত৷ কিন্তু ওই বয়সে পাছে হারমোনিয়াম বিকল করে দেয়, তুতো দিদিরা তাকে দূরে দূরেই রাখতো৷ সেই মেয়েটিই এখন সর্বভারতীয় রিয়্যালিটি শোয়ের আসর মাতাচ্ছে৷ সাম্প্রতিককালে মালদার (Malda) রাফা ইয়াসমিন (Rafa Yeasmin) নামটা সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে সবার মুখে মুখে৷ কেউ বলছেন, ‘আমাদের মালদার মেয়ে’। কারও দাবি, ‘বাঙালি আবার সর্বভারতীয় মঞ্চে নিজের প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটাচ্ছে’। অতীতে বাংলা থেকে শ্রেয়া ঘোষাল, অরিজিৎ সিংদের উত্থান হয়েছিল রিয়্যালিটি শোয়ের মাধ্যমে। যাঁরা পরে ইন্ড্রাস্ট্রিতে পাকাপাকিভাবে জায়গা করে নিয়েছেন। সেই সোনালি সম্ভাবনা আবার দেখা যাচ্ছে বাঙালি কন্যার আবির্ভাবে। হঠাৎ করেই জি টিভির ‘সারেগামাপা’ লিটল চ্যাম্পসের (Zee TV SAREGAMAPA Little Champs) অডিশন পর্বে রাফার গাওয়া ‘সেনেওরিটা’ গান শুনে প্রবাদপ্রতিম অনু মালিক, শঙ্কর মহাদেবন, নীতি মোহনরা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন৷ গানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে নেটমাধ্যমে। এরপর শুরু হয় রাফার সাফল্যের অন্য পর্যায়৷
বাড়িতে গানবাজনার চল ছিল না সেভাবে৷ পরিবারের সদস্যরা গান ভালোবাসতেন৷ গান শোনা হত, কিন্তু পেশাদারি শিল্পী হয়ে উঠতে যে পরিবেশ লাগে সেটা কখনই ছিল না৷ টিভিতে গান হলে তা গুনগুনিয়ে ওঠা ছিল রাফার অভ্যাস৷ সবে কথা শিখেছে, সেই অবস্থাতেই সে গানে গলা মেলানোর চেষ্টা করছে৷ রাফার গান গাওয়ার ঘটনাটি বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের কাছে নিছকই ‘বাচ্চার গান করা’ হয়ে থাকলেও এক ভদ্রলোকের চোখে তা অন্যভাবে ধরা পড়ে৷ সেদিন চিকিৎসাসূত্রে বাড়িতে এসেছিলেন জনৈক ডাক্তার পি ব্যানার্জি। তিনি রাফাকে গান গাইতে দেখে তার বাবাকে পরামর্শ দেন, ‘তোর মেয়ের দারুণ সম্ভাবনা আছে৷ গান শেখার ব্যবস্থা কর৷’ বাবা রাজ্জাক হোসেনের ‘দিন আনি, দিন খাই’-এর সংসার৷ খাওয়া-পরার খরচ সামলাতেই হিমশিম। এই অবস্থায় কীভাবে মেয়েকে গান শেখাবেন? ফলে রাফার গান শেখার ব্যাপারটি আলোচনার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ রইলো৷ ডাক্তার ব্যানার্জি আবার একদিন বাড়িতে এলেন৷ রাফা গান শিখছে কিনা খোঁজ নিয়ে তিনি যখন জানতে পারেন যে রাফা গান শিখছে না। স্বভাবতই একটু রাগের স্বরে বলেন, ‘তোরা যদি ওকে গান না শেখাস, আমিই ব্যবস্থা করছি।’

গ্র্যান্ড অডিশনে মনোনীত হওয়ার পর উচ্ছ্বসিত রাফা
এ-হেন ধমক শুনে রাফার বাবা তাকে গান শেখার ব্যবস্থা করে দিলেন। ব্যাস! এখানেই সূত্রপাত হল রাফার গানবাজনা চর্চার। জীবন অন্য মাত্রা পেলো ডাক্তারবাবুর তৎপরতায়৷ অনেকসময় বিশেষ মানুষের উপস্থিতি জীবনের মোড় বদলে দেয়। রাফার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট ছিল এটাই। প্রথমে তন্দ্রা চৌধুরীর কাছে সংগীতের প্রাথমিক পাঠ, তারপর ক্লাসিক্যালের তালিম দিলেন ক্ষমা কুমার৷ ততদিনে নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসংগীত এবং বাংলা আধুনিক গান নিয়ে মেতে গেছে রাফা৷ সংগীতের মায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে গেছে৷ তার স্বপ্নে সুর-কথারা ভাসে।
বিপত্তি এল অন্য জায়গায়। পাড়াপড়শি এবং আত্মীয়-পরিজনদের অনেকেই বলতে লাগলেন, ‘গান গাইলে আল্লাহ্ রুষ্ট হবেন। বাড়িতে রহমতের ফেরেস্তা ঢুকবে না।’ রাজ্জাক হোসেন এবং তাঁর স্ত্রী তানিয়া ইয়াসমিন পড়লেন মহা ফ্যাসাদে। মেয়েটা ভালো গাইছে, ধীরে ধীরে পাকা-পোক্ত হয়ে উঠছে, তারমধ্যেই এই খবরদারি৷ একদিকে ছিল ধর্মের প্রসঙ্গ তুলে পিছুটান দেওয়ার ব্যাপার, অন্যদিকে সংগীতের জার্নিতে মেয়ের এগিয়ে যাওয়া। বাবা-মা রাফাকে সংগীতের পথেই এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিলেন৷ শক্ত করে ধরে থাকলেন হাত৷ রাফার গানে যখন ভঙ্গ দেওয়া গেল না, তখন শুরু হল তাকে সরাসরি ভয় দেখানোর কাজ৷ ‘গান গাইলে জাহান্নামে যেতে হবে, আগুনে পুড়তে হবে’ ইত্যাদি ভয়ধরানো ব্যাপার শিশু রাফার মনে ভয়ের সঞ্চার করেছিল। সেই ভয় সাময়িক বেগ দিয়েছিল বটে! কিন্ত দমানো যায়নি। গানে গানেই কেটে গেছে ভয়৷
অডিশন রাউন্ডে রাফার গাওয়া সেই ভাইরাল গান
সমাজে এমনও একধরনের মানুষ থাকে, যাদের ধর্মপালনের সঙ্গে বহুদূর পর্যন্ত সম্পর্ক নেই৷ কিন্তু ব্যাগড়া দেওয়া কিংবা গুণ্ডামির সুযোগ পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়ে। ধর্মসর্বস্ব চিন্তাভাবনার কিছু মানুষজন যেমন বাধা দিয়েছেন, এর উল্টোদিকে ধার্মিক মানুষরাও রাফার পাশে ছিলেন৷ রাফা যখন বড়ো মঞ্চে গেল, তাঁরা মনেপ্রাণে দোয়া করেছেন তার জন্য৷ বারবার ভরসা দিয়ে বলেছেন, ‘আল্লা তোমার মেয়েকে আরও বড়ো করুক’।
বাড়িতে গানবাজনার চল ছিল না সেভাবে৷ পরিবারের সদস্যরা গান ভালোবাসতেন৷ গান শোনা হত, কিন্তু পেশাদারি শিল্পী হয়ে উঠতে যে পরিবেশ লাগে সেটা কখনই ছিল না৷ টিভিতে গান হলে তা গুনগুনিয়ে ওঠা ছিল রাফার অভ্যাস৷
রাফার গানজীবনে নানান চড়াই-উৎরাই। দক্ষিণ দিনাজপুরের ব্রাহ্মণগ্রাম থেকে মালদায় চলে আসে তার পরিবার। মালদার (Malda) মীরচকে থেকেই গানবাজনা শুরু হয়৷ বাবা রাজ্জাক হোসেন পেশায় গৃহশিক্ষক, কোনওমতে দিন গুজরান হয়৷ এর মধ্যেই লকডাউনের থাবা৷ ছাত্রছাত্রীদের আসা বন্ধ হয়ে গেল। মায়ের জমানো টাকায় শেষরক্ষা হয়েছিল৷ এই কষ্টের মধ্যেও রাফা নিজের গান ছাড়েনি৷ সকালে দেড়ঘণ্টার রেওয়াজ। অনলাইন ক্লাস, সারাদিনের ব্যস্ততা। সন্ধেবেলা ভেসে আসছে রবীন্দ্র সংগীত (Rabindra Sangeet) কিংবা নজরুলগীতির (Nazrulgiti) সুর — বাড়ির মেয়েটি গানের অভ্যাস করছে। বাঙালি মুসলিম সমাজে এ চিত্র খুব একটা দেখা না গেলেও রাফার ক্ষেত্রে বিষয়টি খুবই নৈসর্গিক। রাফা গাইছে,
“তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা, তুমি আমার সাধের সাধনা,
মম শূন্যগগনবিহারী।
আমি আপন মনের মাধুরী মিশায়ে তোমারে করেছি রচনা
তুমি আমারি, তুমি আমারি…।”
কিংবা তার কোমল কণ্ঠে ফুটে উঠছে,
“নূরজাহান! নূরজাহান!
সিন্ধু নদীতে ভেসে, এলে মেঘলামতীর দেশে
ইরানি গুলিস্তান।”
বড়ো মনোমুগ্ধকর এই দৃশ্যকল্প। নিজ জীবনে খুব সংবেদনশীল, লাজুক, সদাহাস্যজ্বল মেয়েটা পড়াশোনাতেও মেধাবি৷ এসব ধরা পড়ে সবুজ-অবুঝ শিশু অঙ্গনের শিক্ষিকাদের কথায়। তাঁরা বলেন, ‘মেয়েটি এত ভালো যে আমরা খুঁত খুঁজতে তৎপর থাকি, কিন্তু পারি না।’ শুধু গান নয়, আঁকা এবং আবৃত্তিতেও দারুণ পারদর্শী। অবসরে পেপার কাটিংয়ের কাজে মজে থাকতো রাফা। এখন গানের তালিমের কাজ, রিয়্যালিটি শোয়ের ব্যস্ততায় এসব আর হয়ে ওঠে না৷

অণু মালিকের সঙ্গে রাফা ইয়াসমিন
রাফার প্রথম রিয়্যালিটি শো ২০১৯ সালে স্টার জলসায়। সেবার ‘সুপার সিঙ্গার জুনিয়র’-এর আসরে টপ ফাইভে জায়গা করে নেয় সে৷ সেই শুরু…। তারপর ২০২০-তে স্টার প্লাসের ‘তারে জমিন পর’ শোয়েও বেশ নজর কাড়ে রাফা৷ এরপর এল সেই পর্ব যেখানে রাফা সবচেয়ে বেশি আলোচিত৷ জুলাই মাসে জি টিভির সারেগামাপা লিটিল চ্যাম্পের অনলাইন অডিশনে গান রেকর্ড করে পাঠায় রাফা৷ সুখবর এল, প্রথম পর্বে সফলদের তালিকাভুক্ত হওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় কলকাতায় অফলাইন অডিশন৷ অনু মালিকরা জানালেন, ‘রাফা মুম্বাই আসছে৷’ যেন ডানায় বল পেল রাফা৷ তার উড়ানের গন্তব্য মুম্বাই৷ স্বপ্ননগরী। যেখানে হাজার হাজার মানুষ নিজের স্বপ্ন সফল করার স্বপ্ন নিয়ে আসে। মালদা জেলার সাধারণ পরিবারের মেয়েটি সুযোগ পেয়েছে। বাড়তি তাগিদ — শুধু গান গেয়ে সফল হওয়া নয়, তাকে এই পরিস্থিতি বদলাতে হবে৷ এক আকাশ স্বপ্ন নিয়ে রাফা মুম্বই যাচ্ছে৷ কতই বা বয়স হবে তার? বারো-তেরো। বাবার সঙ্গে অনেকদিন দেখা হবে না, কতদিন বাড়ি থেকে দূরে থাকতে হবে৷ ভাবতে ভাবতে কান্না পায় তার। কিন্তু চোখের জল লুকাতে শিখে গেছে সে, তাকে যে পারতেই হবে…।
এরপর এল সেই কাঙ্ক্ষিত দিন৷ রাফার গানে মেতে উঠলো সবাই৷ শঙ্কর মহাদেবনদের মতো গুণীরাও মুগ্ধ। রাফার হাসির আড়ালে লুকানো দুঃখগুলোও বড়ো সজীব৷ অভাবের সংসারে বাবার চোখের অসুখ৷ অপারেশন, ওষুধপাতি৷ বিস্তর খরচ। বাবা পেরে না উঠলে, সে ভরসা দেয়, ‘চিন্তা কোরো না। আমি সব সামলে নেবো।’ একটা বাচ্চা মেয়ের এই সাহস, এই বোধ – অবাক হতে হয়৷ কত কষ্ট! সে সবকিছু মুখে প্রকাশ করে না, সব ব্যথা গানে গানে ফুটে ওঠে৷ আত্মপ্রত্যয় নিয়ে বাঁচে — একদিন সে ঠিক সব সামলে নেবে।
সংগীতের সেরা মঞ্চে শঙ্কর মহাদেবনের সঙ্গে ডুয়েট গাইছে রাফা
শিল্পীর কি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকে? শিল্পীকে কি খুব সংবেদনশীল হতে হয়? এই প্রসঙ্গে কিশোরী রাফার জীবনের দিকে তাকালে মুগ্ধ হতে হয়৷ তীব্র লকডাউন, দেশজুড়ে অভাবের দিন৷ গৃহশিক্ষক বাবার ছাত্রছাত্রীদের পড়তে আসা বন্ধ হয়ে গেছে৷ এই অবস্থাতে তাদের সম্বল রাফার শো থেকে পাওয়া কিছু জমানো টাকা৷ মায়ের জিম্বায় রয়েছে সেই গচ্ছিতধন৷ আশেপাশে এত অভাব, মানুষের অভুক্ত থাকা রাফাকে ব্যতিব্যস্ত করে তুললো৷ বাবা-মায়ের সঙ্গে পরামর্শ করে সে প্রায় দশ হাজার টাকা রিলিফ ফান্ডে তুলে দিয়েছিল৷ একটা তেরো বছর বয়সী মেয়ের এই কীর্তি শোকেসে সাজানো ট্রফিগুলোর চেয়েও আরও বড়ো অর্জন৷ গুণবতী মেয়ের এই দিকটির কথা ভাবলে গলা ধরে আসে বাবার৷ চোখের কোণ অশ্রুসিক্ত হয়৷ কিন্তু সে কান্নায় অন্য প্রশান্তি।
দক্ষিণ দিনাজপুরের ব্রাহ্মণগ্রাম থেকে মালদায় চলে আসে তার পরিবার। মালদার মীরচকে থেকেই গানবাজনা শুরু হয়৷ বাবা রাজ্জাক হোসেন পেশায় গৃহশিক্ষক, কোনওমতে দিন গুজরান হয়৷ এর মধ্যেই লকডাউনের থাবা৷ ছাত্রছাত্রীদের আসা বন্ধ হয়ে গেল। মায়ের জমানো টাকায় শেষরক্ষা হয়েছিল৷ এই কষ্টের মধ্যেও রাফা নিজের গান ছাড়েনি৷
সর্বভারতীয় সংগীত পরিষদের প্রতিযোগিতায় রাফা প্রথম হয় ২০১৮ সালে৷ পশ্চিমবঙ্গ যুব উৎসবে রাফা প্রথম স্থান অধিকার করে৷ সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বোঝা যায় রাফা একদিন আরও সফল হবে৷ শেষপর্যন্ত মেয়েকে কোথায় দেখতে চান বাবা? তাঁর ইচ্ছে মেয়ে যেন সংগীতের সেবা করতে পারে, সেইসঙ্গে ভালো মানুষ হয়। সে যেন প্রতিভাবানদের পাশে থাকে। সবার জন্য বার্তা একটাই, ‘মেয়েদের আটকাবেন না। তাদের স্বপ্নগুলো পূরণ করার পথে পাশে থাকুন।’
এই অল্পবয়সে একাধিক শোয়ে সাফল্য পাওয়ার পরও খুবই ‘ডাউন টু আর্থ’ রাফা। মাটির কাছাকাছি থাকতেই পছন্দ করে। মুসলিম মেয়ে গানবাজ শিখবে? বেপর্দা হয়ে খোলা মাথায় দাঁড়াবে ন্যাশনাল টিভিতে? এ জাতীয় চিন্তারা রাফাকে আটকাতে চায়৷ ডানা ছেঁটে নিতে চায়৷ যাতে স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সে গড্ডালিকাপ্রবাহে ভেসে যায়৷ চার দেওয়ালেই বন্দি থাকে খুব বড়ো হতে যাওয়ার চেষ্টাগুলো। এর বিপরীতস্রোতে রাফার সাফল্য মেয়েদের সাহস দেবে তা বলাই বাহুল্য, ‘গান গাইলে আল্লাহ্ নারাজ হন’ জাতীয় ফতোয়ার বিরুদ্ধে উজ্জ্বল সাফল্য উপহার দিয়েছে রাফা৷ বিধিনিষেধ ছিন্ন করে হেঁটে যাওয়া এক কিশোরী — যেন অন্ধকার ঘুচিয়ে দিচ্ছে তার গান৷ কিংবা ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছে সমস্ত চোখরাঙানি আর পরকালের গজবের ভয়কে৷ সেদিন যাঁরা রাফাকে আটকাতেন তাঁরা এখন গদগদ হয়ে নিজেদের পরিচয় দেন রাফার প্রসঙ্গ টেনে৷ সাফল্য তো এমনই, যেখানে সব তর্ক গান হয়ে ওঠে। সামনে দীর্ঘ পথ। সেই পথ সংগীত সাধনার। এপারে ফতোয়া, ওপারে মুক্ত আকাশ।
____
*সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে লেখা। মতামত লেখকের সম্পূর্ণ নিজস্ব।
