
২০২৩ সালে ইউনেস্কো স্বীকৃতি পায় শান্তিনিকেতন
বোলপুর, শান্তিনিকেতন, বিশ্বভারতী – নামগুলো শুনলেই মানুষের মনে অদ্ভুত এক প্রশান্তি চলে আসে। গ্রাম ছাড়া ওই রাঙামাটির পথকে কোনও এক অমোঘ টানে আপন করে নিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। রুখাশুখা চালচুলোহীন বাংলার সামান্য এক অজ গাঁ-কে, শিক্ষা-শিল্পসংস্কৃতির মাধ্যমে তিনি করে তুলেছিলেন বিশ্বজনীন। এবার শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্য, পরিবেশ ও স্থাপত্য আরও কাছ থেকে অনুভব করতে পারবেন পর্যটকরা। এক নতুন সুযোগ এনে দিতে চলেছে বিশ্বভারতী। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পরে এ বার হেরিটেজ ওয়াক চালু করছে বিশ্বভারতী। উদ্দেশ্য, বিশ্বভারতীর ঐতিহ্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষা ও সংস্কৃতির দর্শন পর্যটকদের সামনে আরও ভাল ভাবে তুলে ধরা।

পর্যটকরা যাতে বিশ্বভারতীর মূল ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরের স্বাদ নিতে পারেন, সেইজন্যেই এই আয়োজন। ইতিমধ্যে রবীন্দ্রভবন সংলগ্ন জগদীশ কানন ঘুরে দেখেছেন উপাচার্য এবং বিশ্বভারতীর আধিকারিকেরা।
২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শান্তিনিকেতন ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড লিভিং হেরিটেজ সাইট-এর স্বীকৃতি পায়। করোনা পরবর্তী সময়ে, প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর আমলে বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসে পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। তবে সম্প্রতি বর্তমান উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ বন্ধ গেট খুলে দেওয়ার জন্য উদ্যোগী হয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, পর্যটকরা যাতে বিশ্বভারতীর মূল ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরের স্বাদ নিতে পারেন, সেই জন্যেই এই আয়োজন। ইতিমধ্যে রবীন্দ্রভবন সংলগ্ন জগদীশ কানন ঘুরে দেখেছেন উপাচার্য এবং বিশ্বভারতীর আধিকারিকেরা। যানজট এড়াতে পর্যটকদের জন্য বিকল্প রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের পরিকল্পনা করা হয়েছে হয়েছে। যেমন, সুবর্ণরেখা মোড় থেকে জগদীশ কানন হয়ে রবীন্দ্রভবন পর্যন্ত হেঁটে যাতায়াতের একটি রাস্তা তৈরি করা হবে।

জানা যাচ্ছে, চলতি মাস অর্থাৎ, জুলাইয়ের শেষে অথবা অগস্টের শুরুতেই পরীক্ষামূলক ভাবে এই হেরিটেজ় ওয়াক চালু হতে পারে। প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে, সপ্তাহে এক দিন নির্দিষ্ট সংখ্যক পর্যটকদের নিয়ে ‘গাইডেড ট্যুর’ পরিচালিত হবে। হেরিটেজ ওয়াকের সময়সীমা হবে দেড় ঘণ্টা। প্রথম দফায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রতি রবিবার এটি চালু থাকবে। দর্শনার্থীদের ঘোরানো হবে পাঠভবন আশ্রম, নতুন বাড়ি, শান্তিনিকেতন ভবন, উপাসনাগৃহ, সিংহসদন এবং কালোবাড়ি। শেষ পর্বে সংগীত ভবনে পাঁচ মিনিটের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও থাকবে।
