এভারেস্টের নাম পালটাচ্ছে?

বাঙালি গণিতজ্ঞকে ‘মর্যাদা’ ফিরিয়ে দেওয়ার লড়াই

আজ এভারেস্ট দিবস। আর ঠিক তার আগেই নাম বদলের দাবি উঠল বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের। দাবি নাম বদলে রাখা হোক মাউন্ট রাধানাথ। শিলিগুড়ি থেকে আন্তর্জাতিক বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি সমিতির আহ্বায়ক সজল কুমার গুহ ঐ দাবি জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন দিল্লিতে। দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কাছে তাঁদের দাবি, ‘ঐতিহাসিক সত্যতা’ কে মাথায় রেখে শৃঙ্গের নাম বদল করতে হবে।

কী সেই ইতিহাস? সজলবাবুর যুক্তি, এভারেস্টের নাম আগে পিক বি ও পিক ১৫ ছিল। তার সঠিক উচ্চতা নির্ধারণ করেন রাধানাথ শিকদার। তিনি ১৮৫৪ সালে এর উচ্চতা নির্ধারণ করে জমা দেন। ১৮৫৬ সালে ইংরেজ সরকার তা প্রকাশ করে। কিন্তু নামকরণের ক্ষেত্রে গণিতবিদ, কর্মী রাধানাথের বদলে নামকরণ করা হয় সার্ভেয়ার জেনারেল জর্জ এভারেস্টের নামে। রাধানাথের  মৃত্যুর ১৪৭ বছর পরেও কেন এই ভুল সংশোধন করা হবে না?

দেশের প্রতিরক্ষা দফতরের হিসাব বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী সজলবাবু। ২০০২ সাল থেকে ২০০৫ পর্যন্ত আড়াই বছর তিনি এইচ এম আইতে হিসাব বিভাগে ডেপুটেশনে ছিলেন। ঐ সময় তিনি তেনজিং নোরগের ছেলে জামলিং তেনজিং, তেনজিংয়ের ভাগ্নে নোয়াং গম্বু, পাঁচ বার এভারেস্ট আরোহণকারী কুশাং দর্জি শেরপা,লাট্টু দর্জি, নাদ্রে শেরপা, মিস কুঙ্গা ভুটিয়া, টি বি বুধাতকি, অমর সিং প্রমুখের সংস্পর্শে আসেন। এরা সকলেই এভারেস্টে আরোহণ করেছেন। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী সাত হাজার মিটারের ওপরে পর্বত আরোহণকারীদের প্রাপ্য বিল মিটিয়ে দিতে এতটুক দেরি করতেন না সজলবাবু। এভারেস্টের টানে তিনি গানও লিখেছেন, লিখেছেন কবিতা। এবার তাঁর লড়াই, বাঙালি গণিতজ্ঞকে মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার লড়াই।

Developed by DXDasia